শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ০৯:৫১ পিএম, ২০২৪-০৯-১০
আবু ফাতাহ মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন : এসআলম কর্তৃক রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ভয়াল থাবা থেকে রেহাই পায়নি স্বাস্থ্যখাতও। স্বাস্থ্যখাত থেকে শ’ শ’ কোটি টাকা লুটপাটকে ধামাচাপা দিতে এবার তদবির মিশন নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দফতরে ঘুরতে দেখা গেছে পিএস হুমায়ুন কবীরকে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দফতরে দেখা যায় হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তি এস আলমের পক্ষে তদবির করছেন।এ সময় চট্টগ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানান এই হুমায়ুন কবীর এস আলমের পিএস। পরক্ষণে হুমায়ুন কবীর তরিঘড়ি স্থান ত্যাগ করেন। পাশাপাশি এসময় স্বাস্থ্য অধিদফতরে তদবিরের জন্য বেশ কিছু লোককে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়।
পতিত আওয়ামী সরকারের এসব প্রেতাত্মা দালাল তদবিরবাজদের এতটাই দৌরাত্ম যে গণমাধ্যম কর্মী সিনিয়র সাংবাদিকরা দিনমান বসে থেকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাত করতে না পারলেও চিহ্নিত দালাল তদবিরকারীরা গোটা দফতর ঘিরে আছে। জানা যায়, এদরে মধ্যে স্বৈরাচার আমলে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা কর্মচারিরাও বদলি ও পোষ্টিংয়ের জন্য তদবিরে এসেছেন।
বিভিন্ন ব্যাংক লুটের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতেও থাবা বসিয়েছিল চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগ্রুপটি। এই শিল্প গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা দখলে নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনও (আইবিএফ) কব্জা করে। ফাউন্ডেশনের অধীনে থাকা সেন্ট্রাল ল্যাবসহ ২৩টি জেনারেল ও স্পেশালাইজড হাসপাতাল আয়ত্তে নেয়। ২০২০ সালে এস আলম গ্রুপ যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অভিজ্ঞ সব কোম্পানিকে তাড়িয়ে দেয়। কেনাকাটার জন্য ২টি কোম্পানি খুলে গত প্রায় চার বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ও সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে ৫শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে যন্ত্র ও সরঞ্জামাদি কেনা এবং লোকাল পার্ট ধরে বিল ও বিনামূল্যে পাওয়া যন্ত্রপাতি ক্রয় দেখিয়ে এহরিলুট করে এস আলম গ্রুপ।
আইবিএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ন, ব্যাংকটির শরিয়াহর বাইরে হওয়া মুনাফা, ব্যক্তির অনুদান ও জাকাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয় আইবিএফ। সেবামূলক হওয়ায় ফাউন্ডেশনটির হাসপাতালগুলোয় অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে সেবা পাওয়া যায়। হাসপাতালের যে কোনো কেনাকাটায় আগে কঠোর নিয়মকানুন মানা হতো। এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর কেনাকাটায় আইবিএফের কোনো নিয়ম মানা হয়নি। অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়।
এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের ভাগ্নে ডা. তানভির হাসপাতাল বিভাগে প্রভাব বিস্তার করে নিয়ম ভেঙে যন্ত্রপাতি কেনাকাটা শুরু করলে আপত্তি জানান কর্মকর্তারা। আপত্তি জানানো কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত ও সরিয়ে নিজেদের লোক বসানো হয়।
চার বছরে ১ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটা
২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত চার বছরে যন্ত্রপাতি কেনাকাটার আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আইবিএফ দিতে পারেনি। সরেজমিন ফাউন্ডেশনটির পারচেজ, হাসপাতাল ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের অন্তত ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। প্রত্যেকে জানান, এ সময়ে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এসব কেনাকাটার সবই হয়েছে এস আলমের অনভিজ্ঞ দুই কোম্পানির মাধ্যমে। এক টেন্ডারেই ৬টি এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং), ৫টি সিটি স্ক্যান, ২টি ক্যাথ ল্যাব, ৭টি আল্ট্রাসাউন্ড, ১৮৭টি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বেড ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ল্যাব যন্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এ ছাড়াও ২৫টি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইকো, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, সিএসএসডি, পেশেন্ট মেশিন ও কার্ডিয়াক ওটি সরবরাহ করা হয়। এই বিপুলসংখ্যক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ও সরবরাহে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়।
আইবিএফের এক ঊর্ধŸতন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে ৯৯০ কোটি টাকার বেশি যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হয়েছে। এর অধিকাংশই সেন্ট্রাল ল্যাবসহ ঢাকার সাতটি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। এসব কেনাকাটায় লোকাল যন্ত্রাংশের নামে একটি বিভাগ খোলা হয়, যার মাধ্যমে কেনাকাটা করে কয়েকশ কোটি টাকা লুটে নেওয়া হয়। আবার সেন্ট্রাল ল্যাবের সব যন্ত্রপাতি বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। একই কায়দায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণও (রি-এজেন্ট) কেনা হয়।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এগুলো নিয়ে যারাই প্রতিবাদ করেছে, তাদেরই চাকরিচ্যুত ও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ ফাউন্ডেশনটি মানুষের কল্যাণের জন্য করা হয়। জাকাতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান অনুদান দিত। কিন্তু এস আলমের দুর্নীতির কারণে তারা চলে যায়। কমিশন-বাণিজ্য করেই ২শ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৫শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এস আলম গ্রুপ।
অভিজ্ঞদের কাজ না দিয়ে কোম্পানি খুলেই কেনাকাটা
আইবিএফ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরপরই নিজেদের নামে গ্লোবাল মেডিটেক ও ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নামে দুটি কোম্পানি খোলেন এস আলমের ভাগ্নে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. তানভীর আহমদ।
যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে হলে নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। কিন্তু ২০২০ সালের পর প্রতিটি দরপত্র আহ্বান করা হলে সিমেন্স, বায়োটেকসহ নামকরা সব কোম্পানি টেন্ডার দাখিল করে। এমনকি সাইট ভিজিটও করে সিমেন্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কাজ পায়নি। কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও সরবরাহের সব দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্লোবাল মেডিটেক ও ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ারকে। কেনাকাটায় ব্যাংকে এলসি করার কথা থাকলেও সব ধরনের এলসি হয়েছে আইবিএফের নামে।
৬০ লাখ টাকার যন্ত্র কেনা হয়
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় যে ব্যক্তির মরদে...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ জামালপুরের ইসলামপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) ৪৮তম প্রত...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ...বিস্তারিত
টঙ্গী প্রতিনিধি : রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃজামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘট...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃজামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুলিশের ঝটিকা অভিযানে ৮৮ বোতল ভারতীয় মদসহ আ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুরঃ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে রাজীব বাসের রোড পারমিট বাতিল ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited